ডা. শফিকুর রশফিকুর রহমান একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমীর।হমান

জামায়াতের আমির বলেন, “জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। গণভোটের রায়কে আমরা অপমান করতে দেবো না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে।”

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যার জন্য জামায়াত ইসলামী মামলা করবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেছেন, “যদি সে রকমের কোনো ক্রেডিবল আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

কওমীপন্থী দলগুলোর নেতারা বলছেন, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসুক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের সঙ্গে আর কত ধোঁকাবাজি করবেন? প্রয়োজনে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। জুলাই আন্দোলনে মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। জনগণ যখন প্রকৃত ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন ডামি ফ্যাসিবাদকেও প্রত্যাখ্যান করবে।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষ না থেকে ১১ দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে শরিক হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হলেও কার্যকর আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত বা রুলিং আসেনি। তাই সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল।

জামায়াত আমিরের এ ধরনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে দলটির এই নেতা বলেন, “যখন একজন লোক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখে, তখন তো শব্দে শব্দে…।” তাহলে কি এটা ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’–জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটাই তো স্বাভাবিক। শব্দে শব্দে বিচার করা তো ঠিক না।”

শফিকুর রহমান বলেন, “যখন ড. ইউনূস তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে একজনকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তখন আমিই প্রথম এর প্রতিবাদ করে বলেছিলাম যে আমরা এই আন্দোলনের পেছনে কোনো একক মাস্টারমাইন্ডের ধারণা গ্রহণ করি না।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমাদেরকে খুব গরম বিরোধী দল ভাববেন না এবং আমাদেরকে একটা যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য আপনারা সহযোগিতা করবেন।”

রাজধানীর মগবাজারের আদ–দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত মোটেই সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

ইসলামী ব্যাংক ‘দখলের পায়তারা’ হলে নিজেই রাস্তায় নামবেন বলে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ার ১৪ নম্বর মেহফিল কনভেনশন সেন্টারে এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার চালাকি করে সংসদে বাজেট অধিবেশনের ৪ দিন আগে মূল্যবৃদ্ধি করে নিয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, “বাংলাদেশকে যদি ইকোনমিক ডেমোগ্রাফির দিক থেকে ভাগ করা হয়, তাহলে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এলাকার নাম উত্তরবঙ্গ। রাজধানী থেকে যে জেলা যত দূরে, সে তত বেশি সুবিধাবঞ্চিত ও অধিকারবঞ্চিত।

বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করলেও পুরো অধিবেশনজুড়ে সংসদ বর্জনের পথ নেয়নি। এ কারণে অনেকে এটিকে ‘সংসদীয় সহনশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত’ হিসেবেও দেখছেন। তবে ভিন্ন মতও আছে।

“দেশের প্রায় ৭০% মানুষ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা।”

বিএনপির উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “হাজার চেষ্টা করেন ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। সেই আওয়ামী লীগ যারা জাতিকে নিয়ে, বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করত। আজকে তারা কোথায়? আপনারাও একই কাজ শুরু করেছেন।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

জামায়াত আমির বলেন, “নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে? আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সাথে নিয়েই করব। আন্দোলনের বিষয়ে ১১টি দল আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪-এর জুলাই গণআন্দোলনের সকল শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারের ভালো কাজকে নৈতিক সমর্থন দেবো, কিন্তু জনস্বার্থের বিরোধী কিছু হলে তা মেনে নেব না।